বর্তমানে সারা দেশে চলমান ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার সংক্রান্ত
দাবী সমূহ আদায়ের জন্য প্রধান উপদেষ্টা বরবার স্মারকলিপি।
ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত ও উত্তীর্ণ ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে উপসহকারী প্রকৌশলী (Sub-Assistant Engineer) পদে নিয়োগে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে করে দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়োগব্যবস্থা ভেঙে গিয়ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রতি চরম বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।
আমরা ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার দের বক্তব্য ও যুক্তি:
উপসহকারী প্রকৌশলী পদটি মাঠপর্যায়ের ও কারিগরি কাজভিত্তিক, যেখানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরাই ঐতিহ্যগতভাবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
ডিপ্লোমা ও বিএসসি—দুটি ভিন্ন স্তরের যোগ্যতা। একই পদে উভয় যোগ্যতাকে একত্রে বিবেচনা করলে ন্যায্য প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়।
দীর্ঘদিনের নিয়োগ নজির ও প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী এই পদটি মূলত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। হঠাৎ করে নীতিগত পরিবর্তন অযৌক্তিক ও ব্যাখ্যাহীন।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা বাস্তবমুখী শিক্ষা, সাইট অভিজ্ঞতা ও সুপারভিশন কাজে অধিক পারদর্শী—যা এই পদের মূল চাহিদা।
এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হবে, যা কারিগরি খাতে হতাশা ও বেকারত্ব বাড়াবে।
ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারদের ন্যায্য দাবি:
উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
অথবা, পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী এই পদে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আবেদনযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।
নিয়োগ নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনলে তা বাস্তবায়নের আগে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সাথে আলোচনা ও স্পষ্ট ট্রানজিশন পলিসি প্রণয়ন করতে হবে।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণে সরকারি গেজেট/স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করতে হবে।
আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—
আমাদের এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে পেশাগত অধিকার ও ন্যায্যতার প্রশ্নে গড়ে ওঠা একটি শান্তিপূর্ণ ও যৌক্তিক দাবি।
ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার দের ন্যায্য দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছে আন্দোলনকারীরা ।