মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
নিজের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার সহ মনের কথা ও তথ্য দিয়ে  সংবাদ পাঠাতে পারেন, আপনার পরিচয় গোপন রেখে যাচাই বাছাই করে  নিয়ম অনুযায়ী   প্রকাশ করা হবে ।
শিরোনামঃ
দুনিয়ার স্ত্রীরা কি আখিরাতেও স্বামীদের সঙ্গী হবে? কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ‎ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ব্ল্যাকমেইল: হবিগঞ্জ ডিবির অভিযানে প্রতারক আটক পবিত্র রমজান মাসের সম্ভাব্য তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ কারাগারে আ’লীগ নেতা দুলাল মিয়া নামের এক আসামীর মৃত্যু।। বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন ময়না মিয়া না পেরে দেশে চলে গেছে গণভোটে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে উঠান বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দিলেন তথ্য সচিব রূপাইছড়া রাবার বাগান ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ আনন্দ পুর ইসলামি সমাজ কল্যাণ সুন্নী যুব সংঘের ওয়াজ মাহফিল

বাউল ঘর নিয়ে বিতর্ক ॥ আইজি ছাড়া ওসি-এসপির সাথে আড্ডা দেন না রেষ্টুরেন্ট মালিক

মোঃ নুরুজ্জামান রাজু
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮ বার পঠিত

পাইকপাড়া সড়কে বাউল গানের আড়ালে অশ্লীলতা বন্ধে সুশীল সমাজের প্রতিবাদ সভা ২২ নভেম্বর

॥ হবিগঞ্জ সদরের নিজামপুর-পাইকপাড়া বাইপাস সড়কে নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্ট ‘বাউল ঘর’ এখন বিনোদনের কেন্দ্র নয় বরং অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বাউল গান আয়োজনের আড়ালে এমন সব কর্মকাণ্ড চলছে যা একটি সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। এদিকে এই অবক্ষয় রোধে মাঠে নেমেছে সাধারণ মানুষ। আগামী ২২ নভেম্বর ৫৮ গ্রাম সমন্বয় যুব ঐক্য পঞ্চায়েত হবিগঞ্জের উদ্যোগে গোপায়া ইউনিয়ন পরিষদে সভার আয়োজন করা হয়েছে। গোপায়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নানের সভাপতিত্বে ও ৫৮ গ্রাম সমন্বয় যুব ঐক্য পঞ্চায়েতের সভাপতি এমএ রকিব পরিচালনায় বাউল ঘর নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত ওই সভা সফল করতে ইতোমধ্যে এলাকায় গণসচেতনতা তৈরি হচ্ছে। এতে সর্বস্তরের জনসাধারণকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্প্রতি এসব অশ্লীল গান নিয়ে গৌরাঙ্গের চক ও ধুলিয়াখাল গ্রামবাসীর মাঝে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হয়। সংঘর্ষের পরে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে বাউল ঘরের গানের এক উপস্থাপকের দম্ভোক্তি মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, “যার প্রতিষ্ঠান, সে এখন আর ওসি-এসপির সঙ্গে আড্ডা দেন না, সরাসরি আইজির সঙ্গে আড্ডা দেন।” এমন ‘প্রশাসনিক শক্তির’ বাহাদুরি দেখিয়ে জনসমক্ষে বড়াই করা শুধু আইন-শৃঙ্খলার প্রতি অবজ্ঞার চরম দৃষ্টান্ত নয়, বরং সমাজকে ভুল বার্তা দিচ্ছে অবৈধ কিছু করলেও নাকি প্রভাবশালীর ছাতা থাকলে সব চলে! স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত যত গভীর হয়, এ স্থান রূপ নেয় টিকটকার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের অবাধ আড্ডার স্পটে। নাচ-গান, অশুভ ভিডিও শুট, লাইভ স্ট্রিম-এসবের মাধ্যমে যেভাবে অশ্লীলতা প্রকাশ্যে ছড়ানো হচ্ছে, তা জেলা শহরের পরিবেশকে ভয়াবহভাবে দূষিত করছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোররাই এই ‘বাউল ঘর সংস্কৃতি’র মূল অংশীদার হয়ে পড়ছে। সুশীল সমাজ বলছে, হবিগঞ্জে দিনের বেলা বাউল ঘরে স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা সেখানে গিয়ে টিকটক ও কনটেন্ট তৈরির নামে বিপথে যাচ্ছে। রাতের বেলা হবিগঞ্জে বাউল গানের আয়োজন বহু আগে থেকেই নিষিদ্ধ কিন্তু নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে তা প্রকাশ্যে পালন করা হচ্ছে বাউল ঘরে। যেন তাদের ওপর কোনো আইনই প্রযোজ্য নয়। প্রশাসনের চোখের সামনে এসব কুরুচিপূর্ণ অনুষ্ঠান চললেও দায়িত্বশীল কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। ফলে প্রশ্ন উঠছে কারা এর পৃষ্ঠপোষক? কার সাহসে ভর করে এই অশ্লীলতার উৎসব চলছে? এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলছেন-আমাদের সন্তানরা কোন পথে হাঁটছে? রাতভর অশ্লীল নাচ-গান, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ স্ট্রিমিং, ভিডিও কনটেন্ট তৈরির নামে অসুস্থ প্রতিযোগিতা এসব কি তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত করছে না? পরিবার ভেঙে পড়ছে, পারস্পরিক সম্মানবোধ হারিয়ে যাচ্ছে আর চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধপ্রবণতা বেড়ে চলছে। হবিগঞ্জের মানুষের সরলতা, শান্ত পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কলুষিত করে এই অশ্লীলতার ‘ব্যবসা’ আর কতদিন চলবে? সমাজকে রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয় মানুষকেও সোচ্চার হতে হবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ নৈতিক সংকটে পড়বে এ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে ৫৮ গ্রাম সমন্বয় যুব ঐক্য পঞ্চায়েতের সভাপতি এমএ রকিব বলেন, আমরা বাউল ঘরের এসব অশ্লীলতা ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সভা ডেকেছি। জেলার সর্বস্তরের জনগণ ও সাংবাদিক ভাইদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ করছি। তবে তিনি বলেন, রেষ্টুরেন্ট চলতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু কোনো প্রকার অশ্লীলতা বরদাস্ত করা হবে না। গোপায়া ইউপি চেয়ারম্যান ও সভার সভাপতি আব্দুল মন্নান বলেন, বাউল ঘরে অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ২২ নভেম্বর পরিষদের মাঠে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাউল ঘরের অশ্লীলতা বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..